হাঙ্গেরিয়ান স্কলারশিপ (Stipendium Hungaricum): ব্যাচেলর থেকে পিএইচডি পর্যন্ত ফুল ফান্ডিং
ইউরোপে বিনা খরচে উচ্চশিক্ষা এবং শেনজেন (Schengen) ভুক্ত দেশগুলোতে সহজে যাতায়াতের সুবিধার কারণে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে বর্তমানে অন্যতম শীর্ষ পছন্দের স্কলারশিপ হলো হাঙ্গেরি সরকারের 'Stipendium Hungaricum Scholarship'।
অন্যান্য অনেক স্কলারশিপ যেখানে শুধু মাস্টার্স বা পিএইচডির জন্য দেওয়া হয়, সেখানে এই স্কলারশিপটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি ব্যাচেলর (অনার্স) পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও উম্মুক্ত। বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (Ministry of Education) সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ১৪০ জন বাংলাদেশিকে এই ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ দেওয়া হয়।
কী কী সুবিধা (Benefits) পাওয়া যায়?
এটি একটি সম্পূর্ণ অর্থায়িত স্কলারশিপ প্রোগ্রাম। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিচের সুবিধাগুলো প্রদান করা হয়:
- টিউশন ফি সম্পূর্ণ ফ্রি: পড়াশোনার পুরো সময়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো টিউশন ফি দিতে হবে না।
- মাসিক স্টাইপেন্ড: ব্যাচেলর ও মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি মাসে ৪৩,৭০০ ফরিন্ট (HUF) এবং পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য ১,৪০,০০০ থেকে ১,৮০,০০০ ফরিন্ট দেওয়া হয়।
- আবাসন সুবিধা: বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে বিনামূল্যে থাকার সুযোগ, অথবা বাইরে বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য প্রতি মাসে ৪০,০০০ ফরিন্ট আবাসন ভাতা প্রদান করা হয়।
- স্বাস্থ্যবীমা: হাঙ্গেরিতে অবস্থানকালীন সম্পূর্ণ মেডিকেল ইনস্যুরেন্স।
(বিঃদ্রঃ হাঙ্গেরিতে জীবনযাত্রার ব্যয় অন্যান্য ইউরোপিয়ান দেশের তুলনায় বেশ কম, তাই এই স্টাইপেন্ড দিয়ে একজন শিক্ষার্থীর বেসিক খরচ ভালোভাবে চলে যায়। এছাড়া লিগ্যালি পার্ট-টাইম কাজ করার সুযোগ তো থাকছেই।)
আবেদনের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
আবেদন করার জন্য আপনার প্রোফাইলটি সুন্দরভাবে সাজানো থাকতে হবে। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসগুলো হলো:
- একাডেমিক রেজাল্ট: ব্যাচেলরের জন্য এইচএসসি (HSC) এবং মাস্টার্সের জন্য ব্যাচেলর ডিগ্রিতে ভালো সিজিপিএ থাকতে হবে।
- IELTS/TOEFL: যদিও কিছু বিশ্ববিদ্যালয় Medium of Instruction (MOI) গ্রহণ করে, তবে বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শর্টলিস্টিংয়ে টিকতে হলে IELTS (ন্যূনতম ৬.০) থাকা প্রায় বাধ্যতামূলক।
- Motivation Letter: আপনি কেন হাঙ্গেরিতে এবং নির্দিষ্ট ঐ বিষয়ে পড়তে চান, তা নিয়ে একটি স্ট্রং মোটিভেশন লেটার (১ পৃষ্ঠার মধ্যে)।
- মেডিকেল সার্টিফিকেট: হাঙ্গেরি সরকারের নির্ধারিত ফরমে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের স্বাক্ষরসহ মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট (এইচআইভি, হেপাটাইটিস ইত্যাদি টেস্টের রিপোর্টসহ)।
- পাসপোর্ট: ভ্যালিড পাসপোর্টের স্ক্যান কপি।
আবেদন প্রক্রিয়া (Application Process)
স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গেরিকাম স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়াটি দুটি ধাপে সম্পন্ন করতে হয়। একটি ধাপ বাদ পড়লে আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে:
ধাপ ১: হাঙ্গেরি পোর্টালে আবেদন (টেম্পাস পাবলিক ফাউন্ডেশন)
- নভেম্বর মাসের দিকে হাঙ্গেরির Tempus Public Foundation-এর ওয়েবসাইটে আবেদন শুরু হয়।
- সেখানে অ্যাকাউন্ট খুলে আপনার পছন্দের সর্বোচ্চ ২টি কোর্সে আবেদন করতে পারবেন।
- সব প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস (মোটিভেশন লেটার, পাসপোর্ট, ট্রান্সক্রিপ্ট, মেডিকেল ফর্ম) স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে এবং সাবমিট করতে হবে (জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি ডেডলাইন থাকে)।
ধাপ ২: বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে (MoE) আবেদন
- হাঙ্গেরি পোর্টালে আবেদনের পাশাপাশি আপনাকে বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (shed.gov.bd) ওয়েবসাইটেও অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনলাইন ফর্ম পূরণের পর, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সকল কাগজপত্রের হার্ডকপি (প্রিন্ট করা কপি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঠিকানায় ডাকযোগে বা সরাসরি জমা দিতে হবে।
বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় আপনার রেজাল্ট ও IELTS স্কোরের ভিত্তিতে প্রাথমিক একটি শর্টলিস্ট তৈরি করে হাঙ্গেরিতে পাঠাবে। এরপর হাঙ্গেরির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শর্টলিস্টেড প্রার্থীদের অনলাইন ইন্টারভিউ নেবে এবং চূড়ান্ত রেজাল্ট প্রকাশ করবে।
💡 প্রো টিপস (Pro Tips)
টেম্পাস পোর্টালে কোর্স সিলেক্ট করার সময় আপনার Preference 1 (প্রথম পছন্দ) খুব ভেবেচিন্তে দেবেন। কারণ বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় কেবল তাদেরকেই ইন্টারভিউর জন্য ডাকে, যারা ওই কোর্সটিকে প্রথম পছন্দ হিসেবে রেখেছে। এছাড়া, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্কুলারটি খুব মনোযোগ দিয়ে পড়বেন, কারণ হার্ডকপি জমা দেওয়ায় ভুল হলে আবেদন সরাসরি বাতিল হয়ে যায়।