বিসিএস লিখিত পরীক্ষা: সম্পূর্ণ সিলেবাস ও মানবণ্টন
বিসিএস প্রিলিমিনারির হার্ডল পার হওয়ার পর একজন প্রার্থীর মূল পরীক্ষা শুরু হয় লিখিত (Written) ধাপে। এটি মূলত আপনার জ্ঞান, বিশ্লেষণ ক্ষমতা এবং উপস্থাপনা দক্ষতার চূড়ান্ত পরীক্ষা। প্রিলিমিনারি শুধু বাছাই পর্ব হলেও, লিখিত পরীক্ষার নম্বরই নির্ধারণ করে আপনি ক্যাডার হবেন কি হবেন না, কিংবা কোন ক্যাডার পাবেন।
সাধারণ ক্যাডারদের জন্য বিসিএস লিখিত পরীক্ষা হয় ৯০০ নম্বরের। আর যাঁরা কারিগরি/পেশাগত (Technical/Professional) ক্যাডারে পরীক্ষা দেন, তাঁদের জন্য মানবণ্টনে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। নিচে সাধারণ এবং বোথ (Both) ক্যাডারের সম্পূর্ণ সিলেবাস ও মানবণ্টন তুলে ধরা হলো:
সাধারণ ক্যাডারদের মানবণ্টন (General Cadre)
সাধারণ ক্যাডার (যেমন: প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র, কাস্টমস ইত্যাদি) পরীক্ষার্থীদের জন্য মোট ৬টি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। প্রতিটি ১০০ নম্বরের পরীক্ষার জন্য ৩ ঘণ্টা এবং ২০০ নম্বরের পরীক্ষার জন্য ৪ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ থাকে।
| বিষয়ের নাম | মোট নম্বর | সময় |
|---|---|---|
| বাংলা | ২০০ | ৪ ঘণ্টা |
| ইংরেজি | ২০০ | ৪ ঘণ্টা |
| বাংলাদেশ বিষয়াবলি | ২০০ | ৪ ঘণ্টা |
| আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি | ১০০ | ৩ ঘণ্টা |
| গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা | ১০০ (৫০+৫০) | ৩ ঘণ্টা (২+১) |
| সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি | ১০০ | ৩ ঘণ্টা |
| সর্বমোট | ৯০০ নম্বর | - |
কারিগরি/পেশাগত ক্যাডারের মানবণ্টন (Technical Cadre)
যাঁরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ইঞ্জিনিয়ারিং বা অন্য কোনো পেশাগত ক্যাডারে আবেদন করেন, তাঁদের সাধারণ বিজ্ঞান (১০০ নম্বর) পরীক্ষা দিতে হয় না। বাংলা ২০০ নম্বরের পরিবর্তে ১০০ নম্বরের হয়। এর বদলে তাঁদের নিজ পঠিত বিষয়ের ওপর (Subject matter) ২০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়। অর্থাৎ তাঁদের মোট নম্বরও ৯০০। (আর যাঁরা Both Cadre চয়েস দেন, তাঁদের সাধারণ বিজ্ঞানের ১০০ এবং নিজ বিষয়ের ২০০ সহ মোট ১১০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়।)
বিষয়ভিত্তিক সিলেবাসের সারসংক্ষেপ
১. বাংলা (২০০ নম্বর)
- ১ম পত্র (১০০ নম্বর): ব্যাকরণ (৩০), ভাবসম্প্রসারণ (২০), সারমর্ম/সারাংশ (২০), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক প্রশ্ন (৩০)।
- ২য় পত্র (১০০ নম্বর): অনুবাদ (ইংরেজি থেকে বাংলা- ১৫), কাল্পনিক সংলাপ (১৫), পত্র-লিখন (১৫), গ্রন্থ-সমালোচনা (১৫), এবং রচনা (৪০)।
২. ইংরেজি (২০০ নম্বর)
- Part A (100 Marks): Reading Comprehension (৩০), Thematic Questions (২০), Grammar (৩০), Summary writing (২০)।
- Part B (100 Marks): Translation (English to Bangla- ২৫, Bangla to English- ২৫), এবং Essay writing (৫০)।
৩. বাংলাদেশ বিষয়াবলি (২০০ নম্বর)
এটি অত্যন্ত বিস্তৃত সিলেবাস। বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, ভৌগোলিক অবস্থান, সমাজ, অর্থনীতি, পরিবেশ, বাংলাদেশের সংবিধান, সরকার ব্যবস্থা, এবং জাতীয় অর্জন নিয়ে রচনামূলক ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন থাকে। ম্যাপ ও ডেটা ব্যবহার করা এখানে অত্যাবশ্যক।
৪. আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি (১০০ নম্বর)
- Part A (Short Questions - 40 Marks): বৈশ্বিক ইতিহাস, ভূ-রাজনীতি, পরিবেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা।
- Part B (Analytical Questions - 45 Marks): সমসাময়িক বিশ্ব পরিস্থিতি, কূটনীতি, এবং বাংলাদেশের সাথে অন্যান্য দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক।
- Part C (Problem Solving - 15 Marks): একটি নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক সংকট বা পলিসি দিয়ে আপনার মতামত চাওয়া হবে।
৫. গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা (১০০ নম্বর)
- গাণিতিক যুক্তি (৫০ নম্বর): পাটিগণিত, বীজগণিত, জ্যামিতি, ত্রিকোণমিতি এবং পরিমিতির ওপর লিখিত অঙ্ক করতে হয় (২ ঘণ্টা)।
- মানসিক দক্ষতা (৫০ নম্বর): এটি প্রিলিমিনারির মতোই MCQ পদ্ধতিতে ওএমআর (OMR) শিটে পরীক্ষা হয় (১ ঘণ্টা)। এখানে ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যায় না।
৬. সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (১০০ নম্বর)
- সাধারণ বিজ্ঞান (৬০ নম্বর): ভৌত বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, রোগব্যাধি ও পুষ্টি।
- কম্পিউটার ও আইসিটি (২৫ নম্বর): কম্পিউটার আর্কিটেকচার, নেটওয়ার্কিং, ইন্টারনেট ও ই-কমার্স।
- ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স (১৫ নম্বর): বেসিক ইলেকট্রিক্যাল ও আধুনিক ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ধারণা।
💡 প্রো টিপস (Pro Tips)
লিখিত পরীক্ষায় সময়ের অভাব সবচেয়ে বড় শত্রু। তাই বাসায় ঘড়ি ধরে লেখা প্র্যাকটিস করুন। বাংলা ও ইংরেজি রচনা, অনুবাদ এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির জন্য নিয়মিত অন্তত ২-৩টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার উপসম্পাদকীয় (Editorial) পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ ধারা এবং ইকোনোমিক রিভিউ-এর ডেটা মুখস্থ করে ফেলুন।